গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস: প্রত্যেক মায়ের যা জানা দরকার
গর্ভকালীন ডায়াবেটিস সাধারণ এবং সাধারণত নিয়ন্ত্রণযোগ্য। আগে পরীক্ষা ও সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখলে মা ও শিশু দুজনই সুরক্ষিত থাকে।
· ৪ মিনিটে পড়ুন

গর্ভকালীন ডায়াবেটিস কী?
গর্ভাবস্থায় গর্ভফুলের হরমোনের কারণে শরীরে ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমে যায়। কিছু মায়ের ক্ষেত্রে রক্তে সুগার স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যায় — একেই গর্ভকালীন ডায়াবেটিস বলে। যাদের গর্ভধারণের আগে থেকেই ডায়াবেটিস আছে, তাদের শুরু থেকেই বাড়তি যত্ন দরকার।
কাদের, কখন পরীক্ষা করা উচিত?
প্রত্যেক গর্ভবতী মায়ের রক্তে সুগার পরীক্ষা করা উচিত। সাধারণত প্রথম ভিজিটে এবং আবার ২৪ থেকে ২৮ সপ্তাহের মধ্যে ওজিটিটি (গ্লুকোজ টলারেন্স টেস্ট) করা হয়। যাদের ওজন বেশি, বয়স ৩০-এর বেশি, পরিবারে ডায়াবেটিস আছে বা আগে বড় ওজনের সন্তান হয়েছে, তাদের আরও আগে পরীক্ষা করা হতে পারে।
নিয়ন্ত্রণ কেন জরুরি
সুগার বেশি থাকলে শিশুর ওজন অতিরিক্ত বেড়ে যেতে পারে, জটিল প্রসব বা সিজারের সম্ভাবনা বাড়ে এবং জন্মের পর নবজাতকের সুগার কমে যেতে পারে। ভালো নিয়ন্ত্রণে এসব ঝুঁকি অনেক কমে।
আপনি যা করতে পারেন
নিয়মিত, অল্প অল্প করে খান; পরিমিত লাল চাল বা রুটি, প্রচুর সবজি, ডাল ও প্রোটিন বেছে নিন; মিষ্টি, চিনিযুক্ত পানীয় ও সাদা ভাত কমান। খাওয়ার পর ২০–৩০ মিনিট হাঁটা উপকারী। পরামর্শমতো সুগার মাপুন এবং প্রতিটি ভিজিটে হিসাব নিয়ে আসুন। শুধু খাবারে নিয়ন্ত্রণ না হলে ডাক্তার ওষুধ বা ইনসুলিন দিতে পারেন — ডাক্তারের পরামর্শে দুটোই গর্ভাবস্থায় নিরাপদ।
বেশিরভাগ মায়ের প্রসবের পর সুগার স্বাভাবিক হয়ে যায়, তবে পরে ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে, তাই প্রসবের ৬–১২ সপ্তাহ পর এবং এরপর প্রতি বছর পরীক্ষা করুন।
এই লেখা সাধারণ তথ্য, রোগনির্ণয় নয়। নিজের উপসর্গের জন্য ডাক্তার দেখান। জরুরি অবস্থায় কল করুন ০১৭৮৯-৪৪৬২৪০।
বিএইচআরপিসিতে গর্ভকালীন সেবা


